শুকরিয়া আদায়ের পুরষ্কার ও না আদায়ের পরিণতি ।। শোকর আদায়ের গুরত্ব

আল্লাহ রব্বু আলামিন তাঁর পবিত্র কালামে হাকিমে উল্লেখ করেন যে, ”তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা আদায় কর তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অস্বীকার কর তাহলে আমার আজাব অবশ্যই কঠিন” । -সূরা ইবরাহীম (১৪) : ৭ আসুন আমরা এখন জানব শোকর আদায়ের গুরত্ব সম্পর্কে

এই রকম একটা বিষয় আমরা দেখতে পাই বনি ইসরাইলের তিনজন ব্যাক্তির মধ্যে যাদের মধ্যে একজন ছিলেন কুষ্টরোগী, একজন ছিলেন শ্বেতরোগী আর একজন ছিলেন অন্ধ। আল্লাহ সুবহানহু তালা একবার তাদের পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা কুষ্টরোগীর কাছে এসে জিজ্ঞাস করল তোমার কোন জিনিস সবচেয়ে প্রিয়? সে উত্তর দিল সুন্দর রঙ ও চামড়া কারণ মানুষ আমাকে ঘৃণা করে। ফেরেশতা তাঁর শরীরে হাত বুলালেন এবং তাকে সুন্দর রঙ ও সুন্দর চামড়া দেয়া হলো। তাকে আবার জিজ্ঞাস করলেন তোমার কোন সম্পদ সবচেয়ে প্রিয়? সে বলল উট অতঃপর তাকে দশমাসের একটি গর্ববতী উটনী দা হলো । আল্লাহ এতে বরকত দিন এই কথা বলে ফেরেশতা চলে গেলো।

এরপর ফেরেশতা শ্বেতরোগীর কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলেন তোমার কোন জিনিস সবচেয়ে প্রিয়? সে উত্তর দিল সুন্দর চুল ও টাক থেকে মুক্তি। যার করনে মানুষ তাকে ঘৃণা করে। অতঃপর ফেরেশতা তার মাথায় হাত বুলালেন তাকে সুন্দর চুল ও টাক থেকে মুক্তি দেয়া হলো। এরপর ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞাস করলেন তোমার কোন সম্পদ সবচেয়ে প্রিয়? সে উত্তর দিল গরু অতঃপর তাকে একটি গর্ববতী গাভী দেয়া হলো। আল্লাহ এতে বরকত দিন এই কথা বলে ফেরেশতা চলে গেলো।

এরপর ফেরেশতা অন্ধ ব্যাক্তিটির কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলেন তোমার কোন জিনিস সবচেয়ে প্রিয়? আল্লাহ যেনো আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিন আমি যেন মানুষকে দেখতে পারি। ফেরেশতা তার চোখে স্পর্স করলেন। আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন। এরপর ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞাস করলেন তোমার কোন সম্পদ সবচেয়ে প্রিয়? সে উত্তর দিল ছাগল। তখন তাকে একটি ছাগী দেয়া হলো যে অধিক সংখ্যক বাচ্চা দেয়।

এরপর উট, গাভী ও ছগলের বাচ্চা হলো যার ফলে উটের ময়দান ভরে গেল, গরুর মাঠ পূর্ন হল এবং ছাগলে উপত্যকা ভরে গেল। এরপর ফেরেশতা কুষ্টরোগীর কাছে প্রথম রূপ নিয়ে উপস্থিত হয়ে বলল, আমি মিসকিন সফরে আমার সব শেষ হয়ে গেছে আজ আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ নেই। যার সাহায্যে আমি আমার গন্তব্যে পৌছাতে পারব। যে আল্লাহ তোমাকে সুন্দর বর্ণ, সুন্দর ত্বক ও সম্পদ দিয়েছেন সেই আল্লাহর নামে আমি তোমার কাছে একটি উট চাচ্ছি, যার মাধ্যমে আমি আমার গন্তব্যে পৌছাতে পারব। সে বলল (আমার উপর) অনেকের অধিকার রয়েছে। ফেরেশতা বলল আমই তোমাকে বোধ হয় চিনি তুমি কী কুষ্টরোগী ছিলে না? লোকেরা তোমাকে ঘৃণা করত না? তমি না নিঃস্ব ছিলে? অতঃপর আল্লাহ তোমাকে সম্পদ দিয়েছেন। সে বলল এই সম্পদতো আমি উত্তরাধিকার সূত্রে পূর্বপুরুষ থেকে পেয়েছি । ফেরেশতা বলল যদি তুমি মিথ্যাবাদী হয়ে থাক তবে আল্লাহ যেন তোমাকে পূর্বের অবস্থায় করে দেয়। এবং সে পূর্বের মত হয়ে যায়।

এরপর ফেরেশতা শ্বেতরোগীর কাচে গিয়ে একইকথা বললে সেও কুষ্টরোগীর মত উত্তর দেয় এবং সেও পূর্বের অবস্থায় চলে যায়।

এরপর ফেরেশতা অন্ধ ব্যাক্তিটির কাছে এসে বলল আমি মিসকিন সফরে আমার সব শেষ হয়ে গেছে । আমই আল্লাহর নামে তোমার কাছে একটি ছাগল চাছি যাতে আমার গন্তব্যে পৌছাতে পারি। অন্ধ ব্যাক্তিটি উত্তর দিল আমি অন্ধ ছিলাম আল্লাহ আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন, আমি নিঃস্ব ছিলাম আল্লাহ আমাকে সম্পদ দিয়েছেন। কাজেই তোমার যত ইচ্ছা মাল নিয়ে যাও মহান আল্লাহর শপথ আজ তুমি আল্লার ওয়াস্তে যা কিছু নিবে আমি তার জন্য তোমার নিকট কোন প্রশংসা দাবি করব না। ফেরেশতা বলল তোমার সম্পদ তোমার কাচে থাক তোমাদেরকে শুধু পরীক্ষা করা হয়েছে আল্লাহ তালা তোমার উপর সন্তুষ্ট আর তোমার বাকি সাথীদের উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন।
( বুখারিঃ ৩৪৬৪ নং হাদিস নবীদের কাহিনী অধ্যায় )

[ শিক্ষাঃ সবসময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে ]

One Comment

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *