ইস্তেগফার করার গুরত্ব।। ৮টি সসমষ্যার সমাধান ও একটি সাপ্রাইজ

আমরা আমাদের জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমক্ষিন হয়ে থাকি এবং এর সমাধান খুজতে থাকি। আল্লাহ সুবহানহু তালা আমাদের জীবনের প্রধান প্রধান যে সমস্যা রয়েছে আমরা প্রতিনিয়ত যে সমস্যাগুলোর সসমক্ষিন হই এ সমস্যাগুলোর সমাধান রেখছেন ইস্তেগফাআরের মাধ্যমে। এবং ইস্তেফারের মাধ্যমে অনেক আকর্ষনীয় পুরষ্কারের ব্যাবস্থা রেখছেন। আসুন আমরা এখন জানব ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহ রব্বুল আলামিন যে ৮টি সসমষ্যার সমাধান ও একটি সাপ্রাইজ রেহেছেন সে সম্পর্কে।
ahamad-ullaa

আমরা পবিত্র কালামুল্লাহ মাজিদের (সূরা নূহের) দিকে তাকালে দেখতে পাই যে আল্লাহর নবী নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর জাতিকে লক্ষ করে বলেছিলেন তোমরা আল্লাহর কাচে ক্ষমা পার্থনা কর। তাহলে যে পুরষ্কারগুলো পাওয়া যাবে :

১. আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া যাবে: আল্লাহ রব্বুল আলামিন নিশ্চয়ই অত্যান্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল আল্লাহর কাছে অপরাধী হয়ে থাকা কারণ আমরা চলতে ফিরতে জেনে না জেনে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় ভুল ত্রুটি করে থাকি আর আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদের এইসব ভুলের কারণে আমাদেরকে ধরেন তাহলে আমাদের পার পাওয়ার কোন সুজোগ নেই। তাই আমরা যদি ইস্তেগফার করি তাহলে আল্লাহর ক্ষমা পেয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।

২. অনাবৃষ্টি সমস্যা দূর হবে: যদি কখনো কোন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে যায় তাহলে ওই যায়গার মানুষ তার প্রয়োজনীয় পানি সরবারাহ করতে পারবে না আবার ফল ফসল উৎপন্ন হবে না তখন খাদ্য সংকট দেখা দিবে। কিন্তু মানুষ যদি ইস্তেগফার করে তাহলে আল্লাহ এই অনাবৃষ্টির সমস্যা দূর করে দিবেন।

৩. দারিদ্রতা দূর হবে: আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অর্থের অভাব বা দারিদ্রতা আমরা যদি ইস্তেগফার করে আল্লাহর কাচে ক্ষমা চাই তাহলে তিনি আমাদের এই দারিদ্রতা বা অর্থের অভাব দূর করে দিবেন। এবং তিনি আমাদের এমন সম্পদ দিবেন যে সম্পদ হবে বরকতময় এবং সেই আমাদের শক্তিশালী করবে।

৪. সন্তানহীনতা দূর হবে: অনেকের এই সমস্যাটা রয়েছে যে তাদের সন্তান হয় না। রব্বুল আলামিন আল্লাহ ইস্তেগফারের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করে দিবেন।

৫. ফল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি: আমদের সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও যদি ফল ফসল ঠিকমত উৎপাদন না হয় তাহলে এটি একটি বড় সমস্যা। তাই আমরা যদি ইস্তেরগফার করি তাহলে আল্লাহ ফল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে দিবেন।

৬. নদী নালার স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক থাকবে: নদী নালার মধ্যে স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকলে কখনো অতিরিক্ত পানির কারণে বন্যা হয় আবার কখনো পানির অভাবে নদী শুকিয়ে যায় এটি একটি সমস্যা। তাই ইস্তেগফার করলে আল্লাহ এই সমস্যার সমাধান করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।

৭. বিপদ – মুসিবত থেকে মুক্তি: পৃথিবীতে এমন কোন মানুষ নেই যে তিনি বিপদ মুসিবতের সমক্ষিন হন না। আমরা যখন বিপদের সমক্ষিন হই তখন আমরা পেরেশান হয়ে যাই প্রচুর টেনশান করি কিন্তু যে জিনিসটা আমাদের সবচেয়ে বেশি করতে হবে তা হচ্ছে ইস্তেগফার। ইস্তেগফার করলে আল্লাহ সুবহানহু তালা আমাদের বিপস আপদ মুসিবত দূর করে দিবেন। আমরা যদি হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই যে তিনি যখন মাছের পেটে আটকা পড়ছেন তখন তিনি আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করে বলেছেন (লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইনি কুনতু মিনাজ যলীমিন) এর আল্লাহ তাকে মাছের পেট থেকে উদার করলেন।

৮. আযাব ও গযব থেকে মুক্তি: যখন কোন জাতির মাঝে একজন নবী উপস্থিত থাকে তখন আল্লাহ তাদের উপর গযব দেন না। হযরত নূহ আলাইহিস সালামের জাতির উপর আল্লাহ আযাব দিয়েছেন কিন্তু তাকে আগে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেছেন আরেকটা কারণে তিনি কোন জাতির উপর আযাব দিবেন না যখন তারা ইস্তেগফার করবে। অর্থাৎ ইস্তেগফারের মাধ্যমে আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

এই আটটি বড় বড় সমস্যার সমাধান আল্লাহ রেখেছেন ইস্তেগফারের মাধ্যমে। এরপরে আল্লাহ একটি সাপ্রাইজ পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়ছেন ইস্তেগফারের মাধ্যমে আর সেটি হচ্ছে আল্লাহ এমন উৎস থেকে রিজিক দিবেন যা সে কখনো কল্পনা করে নাই। আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমাদেরকে ইস্তেগফার করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
[ বি: দ্র: লেখাটি শায়েখ আহমাদ উল্লাহর একটি বক্তব্য থেকে শ্রুতলিখনকৃত ]

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *